মহাসচিবের বাণী

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-

اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ ـ خَلَقَ الاِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ـ اِقْرَأَ وَرَبُّكَ الاَكْرَمُ الَّذِيْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ـ عَلًَّمَ الاِنْسَانَ مَالَمْ يَعْلَمْ ـ
পড়ুন! আপনার প্রভুর নামে,যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট বাঁধা রক্তপিন্ড থেকে। পাঠ করুন,আপনার প্রতিপালক মহামান্বিত, যিনি কলমের সাহায্য শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না। (সূরা আলাক: ১-৫

 

হাদিস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে- নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ

“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যিনি কুরআন মজিদ শিক্ষা করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।

 

মাতৃভূমি প্রিয় বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার আগমন ছাহাবায়ে কেরামের আমলেই হয়। এক বর্ণনা মতে হযরত আমার ইবনুল আস(রাযি.) এর নেতৃত্বে ছাহাবায়ে কেরামের একটি কাফেলা এসেছিল বাংলাদেশে। যা বঙ্গোপসাগর এর উপকুলে নোঙ্গর করে।

অন্য আরেক বর্ণনা মতে, প্রিয় নবীজি সা. এর যুগেই তথা অষ্টম ও দ্বাদশ হিজরী সালে ইসলামের প্রথম যুগে ছাহাবায়ে কেরামগণ ইসলামের দাওয়াত নিয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে চীনও গমণ করেন। যে কাফেলার নেতৃত্বে ছিলেন সায়াদ বিন আবু ওয়াক্কাস রাযি.। তিনি রাসুল সা. এর মামাতো ভাই ছিলেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরতে পরতে মিশিয়ে আছে ইসলাম, মুসলমান ও ইসলামী শিক্ষা।

স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধবিদ্ধস্থ বাংলাদেশে ক্ষুধা ও দারিদ্রতার সুযোগে দেশীয় কতিপয় ইসলাম বিদ্ধেষীদের সহায়তায় সেবা ও শিক্ষার স্লোগানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এদেশের সরলপ্রাণ মুসলমানদের সুকৌশলে ধর্মীয় চেতনাবোধ ধ্বংস করতে শিক্ষাক্রমকে মিশন হিসেবে হাতে নিয়ে এদেশ থেকে ইসলাম ও মুসলামানের নাম নিশানা ধুয়ে মুছে ফেলতে অবিরাম কর্মসূচী অব্যাহত রাখে এবং তারা অনেকটা পথ এগিয়েও যায়।

ধর্মীয় শিক্ষা বিমুখ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠা ফোরকানিয়া মাদরাসা ও মক্তবগুলো নিভূ নিভূ করে প্রায় বন্ধ হতে থাকে। এহেন পরিস্থিতিতে যখন সচেতন উলামায়ে কেরাম চিন্তামগ্ন তখনই অবিস্কৃত নূরানী পদ্ধতকে অনুসরণ করে এবং ঐ সিলেবাস কে যুগোপযোগি করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে যুগোপযোগি শিক্ষাব্যস্থাকে পৌঁছে দিতে উম্মুল মাদারিস আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারী (হাটহাজারী মাদরাসার)তত্ত্ববধানে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি সাহবে (দা.বা.)র নেতৃত্বে ১৯৯৫ সাল হতে “নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ” এর তত্বাবধনে মাধ্যমে দেশ ব্যাপি কোমলমতি শিশুদের মাঝে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক গঠনের কাজ আঞ্জাম দিয়ে আসছে।

চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের স্বনামধন্য কওমী মাদরাসার পরিচালক ও বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামগণের পরামর্শক্রমে পরিচালিত হয় “নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ” এর সকল কার্যক্রম। এবং সারা বছর ব্যাপি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত কেন্দ্র সমূহে বোর্ডের নিয়োগধারী প্রশিক্ষক দ্বারা “মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্স” পরিচালনার মাধ্যমে দক্ষ মুয়াল্লিম তৈরী করে মুয়াল্লিম সংকট নিরসনে অগ্রণি ভূমিকা পালন করছে ।

“নুরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ” এর অধীনে তথা সরাসরি নেগরানীতে পরিচালিত হচ্ছে দেশজুড়ে হাজার হাজার নূরানী মাদরাসা। নিবন্ধিত মাদরাসা গুলোতে পড়া-লেখার মানোন্নয়নে বছর ব্যপি পরিদর্শন তথা নজরদারী,মূল্যায়ন এবং মাদরাসাগুলোর মুয়াল্লিমদের যোগ্যতা বর্ধনে আয়োজন করা হয় মুয়াল্লিম জোড়, পরিচালক জোড় ও কর্মশালা।

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে আয়োজন করা হয় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষা। উক্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় অনলাইন এবং জাতীয় পত্রিকায়। অংশগ্রহণকারী মাদরাসা সমূহের সকল পরিক্ষার্থীদের ফলাফলের সমন্বয়ে মেধা নির্ণয় করা হয় বলে ছাত্র-ছাত্রী,শিক্ষক ও অভিভাবকের মাঝে থাকে পড়া-লেখার উন্নয়নে প্রতিযোগিতা।

তাছাড়া নিবন্ধিত মাদরাসা গুলোর নার্সারী,শিশু, ১ম ও ২য় শ্রেণিরও বার্ষিক পরীক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে এবং প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষার খাতা সরবরাহ করে।

নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ এর নিবন্ধিত সকল মাদরাসা সমূহে পঠিত হয় বোর্ড প্রকাশিত বইসমূহ। বোর্ডের প্রকাশিত বইসমূহ প্রণয়ন ও সম্পাদনায় দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম, খ্যাতিমান ডক্টর, প্রফেসর ও অভিজ্ঞ শিশুতোষ মুয়াল্লিমের পরামর্শক্রমে। যা পরিচালিত হয় বোর্ডের সম্পাদনা ও প্রকাশনা কমিটির মাধ্যমে। বোর্ডের প্রকাশিত বইগুলো আমাদের নির্ধারিত কেন্দ্র হতে এবং সরাসরি প্রধান কার্যালয় হতে সংগ্রহ করা যায়। উল্লেখ্য আমাদের বই কোন লাইব্রেরীতে বিক্রয় হয় না।

নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর হতে শিশুর মৌলিক শিক্ষায় এবং দেশে শিক্ষার হার বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা মাদরাসাসহ স্কুল ও কলেজে মেধা স্বাক্ষর রাখছে যা সর্বজন প্রশংসিত।

তাই দেশ ও জাতি গঠনে নুরানী তালীমুল কুরআন বোর্ডের কার্যক্রমে দেশবাসী, শুভকাঙ্খিদের সুপরামর্শ, সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করছি।

আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন

 

 

মাওলানা মুফতি জসিমুদ্দীন

মহাসচিব

নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ।

মুফতি ও মুহাদ্দিস

আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী।

কপিরাইট.©২০১৬. নূরানী তা'লীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ এর দ্বারা সর্বসত্ব সংরক্ষিত। প্রধান কার্যালয়:- দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদ্রাসা)।|| Developed ByYEARS Tech
Loading...
Facebook Messenger for Wordpress